অদিতি রায়

শল্কমোচন

লজ্জাগুলি বলবার মতো কোনো মঞ্চ পেলে, 
উঠে দাঁড়িয়ে দেখাতাম গোপনতর দাগ। 
সেই কবে আইস্ক্রিমওয়ালার থেকে ক্লাস এইট, এক টাকা খুচরো বাকি রেখে- খেয়েছি জলবরফ;
ফেরত দিইনি খুব জয় হল জেনে। 
 
সেই কবে ভুল বিছানায় সব পোশাক গিলেছে আর রোদ, অসদ্ভাবে ওঠেনি সেদিন। তবু সে কি ভুলবার মতো? মন থেকে কঁকিয়ে উঠেছে ঢেউ, ভুলে যাও- ভুল দিনগুলি।
 
সরলরৈখিক পথে কীভাবে বেছেছি ঘুর, ইচ্ছে করে ঘুরে যাব বলে। সংহতি ছেড়ে দূরে বসে গেছি কবিতা লিখব। আবার আড্ডার গোলে ফিরে বসে ধোঁয়ায় ধোঁয়ায় শরীরের ভেতর পাড়ায় পাঠিয়েছি মরা তামাকের চিঠি, মৃত্যু যন্ত্রণা। এসব কি বলে দেব মঞ্চে উঠে – কেবল একটি বন্ধু ছেড়ে গেল বলে?
 
আমাকে বলতে দেওয়া হলে, হাততালি উঠে আজ সম্ভাষণে জাগে যদি সমব্যথী হাত- আমি বলে দিতে পারি, কাকে আর ফেরত দিইনি বই, কাকে ছাড়িনি ট্রেনে সীট- কাকে অবহেলায় ফেলেছি আর কত উচ্চকন্ঠে কটুক্তি করে উড়িয়েছি অসময়ে তৃষার্ত কোকিল। 
 
তোমাদেরও এসব গোপন ডায়েরি হয়ত বা আছে। আজ যদি একটি মঞ্চে, গ্রীসের প্রথম নাট্য অভিনীত হয়- তোমরা পুরোনো লোক, বাল্মীকি- শল্ক স্তূপ ঝেড়ে ফেলে ফাঁকা হয়ে বসতে চাও না?

 

অদিতি রায়। বাড়ি বারুইপুর।  পড়াশোনা বাংলা সাহিত্য নিয়ে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে গবেষণার কাজে যুক্ত। ঠাকুরদা বলরাম রায় ছিলেন লেখক। তাই ডায়েরি নিয়ে কবিতা লেখাটা তারও শুরু হয়ে গিয়েছিল পাঁচবছর বয়স থেকেই৷ লেখালিখি করেছেন, আনন্দমেলা, দেশ, মাসিক কৃত্তিবাস, এই সময় কাগজ প্রভৃতিতে।

2 thoughts on “অদিতি রায়”

  1. মনস্তাপ থেকেই শ্লোক, আদি কাব্য। আরও আসবে জীবনে, গভীর হবে উচ্চারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 3 =

Shopping Cart
Scroll to Top