হিজলদিঘি ধান
১
হিজলদিঘি ধান
ফলন্ত সব গাছ কাছে ডাকে
শান্ত ইস্কুল সব থেমে থেমে আছে
আমায় নাও আরও একটু কাছে
এই সামান্য কথা বলবো বলো কাকে
কথা দিয়ে চলে গেছে রোগা পাখি
দানাপানি নিয়ে কত ডাকাডাকি
মিছেই ভেনেছি দেখো হিজলদিঘি ধান
চলে গেছে তবুও থেকে যাওয়ার ভান
বিলুপ্ত প্রজাতির ধান রুয়েছি দেখো
জমির পাশে শিরিষ, শিরিষ পেরিয়ে সাঁকো
সাঁকোর নিচে সোঁতা, সোঁতায় নদীর আদল
সাঁকো চিনিয়েছি যাকে সে-ই বদ্ধ পাগল
২
রিফ্যুজি কলোনি
শূদ্রদের দাওয়ায় পাত পেড়ে বাবু হয়ে খেতে বসছেন উচ্চবর্ণের নেতানেত্রী
খাবার দেখে হামলে পড়েছে ভদ্দরলোকেদের মিডিয়াও
ডিমভাত, মাংসভাতের ভোজসভায় লো-ভল্যুমে বাজছে
মরিচঝাঁপির আর্তনাদ
বিজয়মিছিল আর ট্রাফিক সিগন্যালে
রবীন্দ্রসঙ্গীতের বদলে
যত দূর শোনা যায়
ঋষিগোপাল মণ্ডল কবি, সাংবাদিক, অধ্যাপক। বর্তমানে বর্ধমান মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা মহাবিদ্যালয়ের গণ জ্ঞাপন ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান। কলকাতা টিভি’র সিনিয়র জার্নালিস্ট হিসেবে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। আনন্দবাজার, দেশ, প্রতিদিন, এই সময়, কৃত্তিবাস সহ বহু পত্র পত্রিকায় প্রবন্ধ, ফিচার, কবিতা, রম্য রচনা ও গবেষণাপত্র লিখেছেন। জেলা ও রাজ্য স্তরের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শীর্ষপদে দায়িত্ব সামলেছেন। জাতীয় স্তরে রাজীব গান্ধী সিনিয়র রিসার্চ ফেলো। লিখতে ভালোবাসেন। এবং সবুজ পাহাড়ও।
Post Views: 123

হিজলদিঘি ধান! শুনিনি তো আগে এই বিশেষ প্রজাতির ধানের নাম। কবি ঋষি গোপাল অবশ্য এভাবেই নতুন শব্দের জ্যোছনায় ভরে দেন আমাদের উঠোন খানি। তাঁর প্রথম কবিতার শব্দরা পেলব , দিনান্তের নরম আলোয় মায়াবী। দানাপানি পেলেও পাখি কথা রাখেনা, উড়ে যায় ঠিক।মানুষের সাথে মিল পাচ্ছি কি কোথাও? মানুষও কি তেমনই সব আদর সব ভালোবাসার বাঁধন দুহাতে ঠেলে চলে যায়? ঋষিগোপাল প্রশ্ন উস্কে দিলেন। প্রথম কবিতায় খানিক ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও পরের কবিতায় সেই গদ্যকার ঋষিগোপালের, সাংবাদিক ঋষি গোপালের ধারালো লেখার খরতাপ, সেই চেনা, সটান ভঙ্গি। যিনি হিজল দিঘির মায়ায় ডোবেন, তিনিই লেখেন মরিচ ঝাঁপির কথা। চোখ ভিজে যায় পাঠকের।