সংলাপে প্রলাপে
১) ও জল স্থিতধী হও
তোমার কঙ্কালতন্ত্র খুলে দাও
আমি মীন জন্মে যেতে চাই।
মেছুনীর বঁটি হেঁসে ওঠার আগেই
জীবন যাপনের কৌশল শিখে নি,
রূপোলী আগুনে জ্বলুক ঢেউয়ের দশদিক
তারপর বাকিটা তুমি লেখি নিও…
২) হঠাৎ তোমার সম্মুখীন হতে হবে
হঠাৎ দুলে উঠবে সৌর মালার গ্রহ গুলি।
তোমাকে চিনতে পারবো তো?
বজ্জাত মানুষের ভীড়ে তোমার গায়ের গন্ধ
তখনও কি ঝিম ধরাবে স্নায়ুর জালিকায়।
দুজনেই চুপচাপ পাশ কাটিয়ে চলে যেতে যেতে
ধসে পড়বো দুই জন, দুজনার দিকে।
লোক বুঝতেও পারবেনা মহাজাগতিক স্রোতে
কি ভাবে আমরা মীন জন্মে ছিলাম!
৩) পারলে, নিজ গুণে ক্ষমা করে দিও,
আকুল’দার চায়ের ঠেকে বসলে
আমি পৃথিবীর মানচিত্র ভুলে যাই।
সুখী গৃহকোণ থেকে থালা বাসনের ঠুংরি শুনি,
দাম্পত্য কলহের অবসানে
পুরুষ মানুষটি আবার ময়ূর হতে চায়।
আকুলদা আদা চায়ে আকাশ মিশিয়ে দিয়ে
নিজেই দশদিক হয়ে ওঠেন,
আর আমরা ক’জন আদিম সান্ধ্য পুরুষ,
ছাপোষা নগরের শেষে!
৪) কোথাও তেমন ভাবে যাওয়া হয় না আর।
শুধু বাংলা ভাষার চৌকাঠ দাঁড়িয়ে থাকি,
দেখি বাজখাঁই ছেলে গুলো গলির থেকে
বেরিয়ে রাজপথে হাঁটতে হাঁটতে ক্রমশ
চে গুয়েভারা থেকে রবীন্দ্রনাথ হয়ে আসছে
চোখের সামনে আঁটোসাটো সকালে খুলে
ঢলঢলে বিকেলের
হুক লাগাছে অপরিচিতা।
নাম জানা হয়নি বলেই
তারা ঠিকানায় বাংলা লিখে
উড়িয়ে দিয়েছে ফেব্রুয়ারীর জন্য!
5) একটা বয়সের পর
আর তোমাকে প্রেমিকা লাগে না,
বরং একটা ছাতিম গাছের বয়সী লাগে!
যেখানে সিগারেটের জ্বালিয়ে গা এলিয়ে বসা যায়
বাজখাঁই গলায় গাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ,
খিস্তি আর ঘামের ভেতর তোমাকে স্নিগ্ধা লাগে,
ঝিরিঝিরি শাড়ির হাওয়ায়
ঘুম এলে তোমাকে চৈত্র পূর্নতা দিতে পারি
কিন্তু প্রেমিকা ভাবতে পারি না!
কারণ
গ্রহে গ্রহে ছয়লাপ হওয়া সৌর সংসার
তোমার জন্যই আহ্নিক গতিতে ঘোরে!
বাঁকুড়া জেলার কাঁসাই তীরবর্তী গ্রাম আমাই নগরে। ছাত্র জীবন থেকে লেখা লেখির পাগলামি। জীববিদ্যার শিক্ষক হয়েও নেশায়
কবিতা ও গল্প লেখা। প্রথম কাব্য গ্রন্থ- ‘অবোধের বর্ণমালা জাগ ‘ এবং দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ -‘ নদীর সিম্ফনি। ধর্মহীন ধূলিসাৎ জীবনের কাছে কবিতাকেই
ঈশ্বর রূপে অনুসন্ধান করে চলা!
Post Views: 177
