অন্ধকার ক্ষত
আওয়াজ আসে, স্থাণু ও মিহি
আততায়ী যেমন আসে, নির্বিঘ্ন নিরিবিলি
কার ছায়া অসহায় আকাশরঙা
উঁকি দেয় চৌকাঠে, নড়বড়ে ঈষৎ কিংবা
তুমি ফেলে আসো মুদ্রায়, রহস্যনগরী
বিপন্ন জিবীকাসহ হনন প্রস্তুতি
নিরলে নিভৃতে কাঁদো তুমুল বৃষ্টিতে
কাকে করো অনুভব নিঝুম কবরে
ক্ষতাক্ত হৃদয়ে কার ঠাঁই হলো বলো
দুফোঁটা অশ্রু আজ ঈশ্বরের অলক্ষ্যে গড়ালো।
কীটভার্যা
তুমি রক্তপদ্মে কীট হয়ে থাকো
দু’পেয়ে, দুহাত, একাহারি মস্তকের প্রতিবিম্ব
তুমি জলে শোনো হাড়মড়মড়ি
পাঁজরআঁধারে শোনো নাতিদীর্ঘশ্বাস
তুমি চিন্তিত, মন্দ্রিত, স্থিরচিত্র আঁকো
কতখানি দীর্ঘ হবে তপ্ত উরুখানি,
স্পর্শ হবে কতখানি দাহ্য অনুপাত
রাতভর বৃষ্টি হবে, ভিন্ন প্রহসনি!
এ কীট নিষাদ কালে, এবং প্লাবনে
হৃদয়ের তূলনীয় কাছাকাছি থাকে
আমি তার রূপভোগি, দেহসহবাসী
এ আমার একান্ত মোকাম নিবাসী ।
লয় ও প্রলয়
১.
সে কি দৃশ্যে মূক হয়ে যাবে?
নাকি মৃত স্পর্শে জেগে উঠবে
তীব্র শিহরণ,
কে নিশ্চুপ হয়ে থাকে বলো
সমুদ্র ও পাহাড়ের মাঝামাঝি।
২.
আমি যত ক্ষিপ্ত হই
ততবার শব্দ শুনি মোহন বাঁশির
শব্দরা নিঃশব্দে কিনারে আমার
নিজের বল্কলে থাকে
এ যে
তাপময় সঙ্গ বিবেচনা
৩.
একদিন তারা নিভে যায়
একদিন ক্লিশে হয়ে আসে
বসন্ত বাতাস
কাকেরা বাড়ায় হাত
নতজানু অন্য এক মৃতের দেহের
তাহার উপর থাকে
শামিয়ানা দুঃস্থ কবরের।
৪.
আমি কি অবোধ তবে?
অন্ধ ক্রান্তিকালে
জেগে থাকি বীজ হয়ে উষর মরুর
৫.
বিনীত সমুদ্র আসে
নতজানু সহিসের কাছে
সেখানে খাবার নেই
জল ও বাষ্প নেই
মুখ ও মূত্রে দূষণ প্রবল
.
কবি ও গদ্যকার। জন্মস্থান বাংলাদেশ। কানাডায় বসবাসরত প্রায় দেড় যুগ। কবিতাই ধ্যান ও ধারণা। মূলত ছোট কাগজের লেখক।
