তৈমুর খান

  ১

প্রেমিক

একটি নারীও কি তবে একটি বাঁশি?
নিশির প্রহরে নিশা জাগে
কেঁপে কেঁপে উঠি আমি
কম্পন আসতে থাকে তার অনুরাগে
 
সব দিঘি মৃতপ্রায়, কোথাও দিঘির ঘাট নেই
উচ্ছল রাজকীয় পথে নামে না সখীর দল
চরভূমি জুড়ে স্মৃতির ছায়ারা চলাফেরা করে
আমারও ঘোড়া নেই, সব কাল্পনিক তরোয়াল
 
এই পথে আজও ইতিহাস—বিক্রম! বিক্রম!
নারীর মুখ ভেসে ওঠে, অথবা মাধুর্যময় সুর
একা একা আমি হেঁটে যাই
আর উড়তে থাকে আমার অনুভূতির ভ্রমর…
 
 

অপেক্ষা

অমৃত খেতে খেতে
আমরা চুপচাপ হয়ে গেছি
অমরত্বের চিঠি এখনও আসেনি
ফাঁকা ডাকঘরে আমি ও এক প্রাচীন পোস্টমাস্টার
দিনান্তের দিকে চেয়ে আছি
 
 
 ৩

সাপজন্ম

রোজ ভাবি আর ফণা তুলব না
তবু ফণা উঠে যায়
নিজের বিষদাঁত নিজেই ভেঙে ফেলি
তবু রোজ বিষ জমা হয়
 
মাটিতে গর্ত খুঁড়ে খুঁড়ে
সমস্ত বেদনা রাখি মাটির গভীরে
কারো সামনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আর দাঁড়াব না
 
তবু বেরিয়ে আসি
পাখি ব্যাঙ টিকটিকি সারারাত যাতায়াত করে
নিজের দংশন স্বভাব পাল্টাতে পারি না
 
জন্মগত হিংস্রতা আমাকে শেখায় কৌশল….

তৈমুর খান নব্বই দশকের কবি। জন্ম ২৮ জানুয়ারি ১৯৬৭, বীরভূম জেলার রামপুরহাট ব্লকের পানিসাইল গ্রামে। শিক্ষা বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে। পেশা শিক্ষকতা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কোথায় পা রাখি’ (১৯৯৪)।কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ : বৃত্তের ভেতরে জল, উন্মাদ বিকেলের জংশন, স্তব্ধতার ভেতর এক নিরুত্তর হাসি, সভ্যতা কাঁপে এক বিস্ময়ের জ্বরে, সর্বনাশের ডায়েরি, চারিদিকে ভালো অন্ধকার এবং নির্বাচিত কবিতা ইত্যাদি। নতুনগতি সাহিত্য পুরস্কার, কবি আলোক সরকার স্মারক পুরস্কার, বার্ণিক সাহিত্য সম্মান এবং সুখচাঁদ সরকার স্মৃতি পুরস্কার ও দৌড় সাহিত্য সম্মান পেয়েছেন। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × four =

Shopping Cart
Scroll to Top